বাচ্চা নষ্ট করার ট্যাবলেট এর নাম।বাচ্চা নষ্ট করার পর কি কি সমস্যা হয়

বাচ্চা নষ্ট করার ট্যাবলেট এর নাম : অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ নিয়ে প্রত্যেক দম্পতিই দুশ্চিন্তায় থাকেন। বাচ্চা নিতে আগ্রহী না থাকা সত্বেও অনেক সময় ভুলক্রমে বাচ্চা গর্ভে চলে আসে। তখন চায় যে বাচ্চা কে নষ্ট করতে বা গর্ভপাত করতে। সেই সময়ই চিন্তা করে কি করলে বা কি ঔষধ খেলে বাচ্চা Miscarriage হবে।

বাচ্চা নষ্ট করার ট্যাবলেট এর নাম।বাচ্চা নষ্ট করার পর কি কি সমস্যা হয়

বাচ্চা নষ্ট করার ট্যাবলেট এর নাম

বাচ্চা নষ্ট করার ট্যবলেট আমরা তখনই খুঁজি যখন অনাকাঙ্ক্ষিত বাচ্চা গর্ভধারণ করে ফেলে। এর মূল কারণ হচ্ছে সতর্কতা এবং সহবাসের সময়কোন প্রটেকশন ব্যবহার না করা। আবার অনেকের দেখা যায় যে, তাদের কাঙ্ক্ষিত বাচ্চা গর্ভধারণের পর আপনা আপনি সেটা গর্ভপাত হয়ে যায়। এতে স্বামী স্ত্রী দুজনেই ব্যাতিত হন।

কি খেলে পেটের বাচ্চা নষ্ট হয়?

বাচ্চা নষ্ট করার থেকে আগে থেকেই সতর্ক থাকা উচিত। যদি বাচ্চা নিতে অনিচ্ছুক থাকেন তাহলে সহবাসের সময় প্রটেকশন ব্যবহার করা উচিৎ। যদি না ব্যবহার করা হয় তাহলে আরেকটি মাধ্যম হচ্ছে গর্ভনিরোধক ট্যাবলেট সেবন করা। বাজারে অনেক ধরনের গর্ভনিরোধক ট্যবলেট রয়েছে যা সহবাসের পর  সর্বোচ্চ ৫ দিনের মধ্যে ট্যাবলেট খেলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ থেকে বেচে থাকা যায়।

আরো পড়ুনঃ ইমার্জেন্সি পিল খাওয়ার নিয়ম।ইমার্জেন্সি পিল খাওয়ার কত দিন পর মাসিক হয়।

১৫ দিনের বাচ্চা নষ্ট করার ট্যাবলেট এর নাম

বাচ্চা নষ্ট করার জন্য গর্ভবতী নারীরা বিভিন্ন ঔষধ খেয়ে থাকেন তবে এরমধ্যে সব থেকে জনপ্রিয় কার্যকরি ঔষধের নাম হচ্ছে M M Kit (এম এম কিট)। এম এম কিট খাওয়ার নিয়ম রয়েছে, যদি সেই নিয়ম না জেনে থাকেন বা সেই নিয়ম অনুযায়ী না খান তাহলে বাচ্চা নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা কম। এই এম এম কিট গর্ভবতী হওয়ার সর্বোচ্চ ৬৩ দিন বা ৯ সপ্তাহের মধ্যে খেতে হবে। এর বেশি হয়ে গেলে আর কাজ করবে না।
M M kit সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে এই আর্টিক্যালটি পড়ুনঃ এম এম কিট কি? এম এম কিট খাওয়ার সঠিক নিয়ম।

এক মাসের বাচ্চা নষ্ট করার ঔষধ

গর্ভধারণের এক মাস হয়ে গেলে যদি বাচ্চা গর্ভপাত করাতে চায় বা গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করতে চায় তাহলে ২ টা প্রক্রিয়া আছে।
১। এম এম কিট ট্যাবলেট সেবনের মাধ্যমে বাচ্চা গর্ভপাত করা বা বাচ্চা নষ্ট করা।
২। একমাসের মধ্যে isovent 200 mcg ট্যাবলেট ৩ টা একসাথে খেতে হবে। তাহলে ইনস্ট্যান্ট মাসিক আরম্ভ হয়ে যাবে। বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাবে।

দুই মাসের বাচ্চা নষ্ট করার ঔষধের নাম কি

গর্ভধারণের পর যদি বাচ্চার বয়স ২ মাস না হয় তাহলে আগের মতই এম এম কিট খেতে পারবেন। এম এম কিট  খাওয়ার সর্বোচ্চ সময় হচ্ছে দুই মাস। দুই মাস পার হয়ে গেলে আর কাজ হবে না। যত দ্রুত খাবেন তত দ্রুত কাজ করবে। 

আবার যদি গর্ভধারণের এক মাস অতিবাহিত হয়ে যায় তাহলে isovent 200 mcg ট্যাবলেট ৩ টা একসাথে খেতে হবে এবং ২ টা যোনিতে প্রবেশ করাতে হবে।
এই ধরনের ট্যাবলেট খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করুন।

আরো পড়ুনঃ প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট এর নাম ও দাম এবং ঘরে বসে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার উপায় 

৩ মাসের বাচ্চা নষ্ট করার উপায়

গর্ভাবস্থার ২ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর কেউ যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে সে গর্ভপাত করাবে বা বাচ্চা নষ্ট করে দিবে তাহলে তখন একমাত্র উপায় হল সার্জিক্যাল গর্ভপাত। সেটা শুনে অনেকেই ভয় পেতে পারেন। গর্ভপাত করানোর জন্য সবথেকে ভাল উপায় হচ্ছে ঔষধ সেবন। প্রাথমিক ভাবে ৭২ থেকে ১২০ ঘন্টার মধ্যে জন্মনিরোধক পিল তা সম্ভব না হলে বা সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে ২ মাসের মধ্যে এম এম কিট খাওয়াই হল বাচ্চা নষ্ট বা গর্ভপাতের সব থেকে ভাল মাধ্যম।

সার্জিকাল গর্ভপাত না করে কীভাবে গর্ভাবস্থা বন্ধ করা যায়

২ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে কোনও ধরণের গর্ভপাত না করে গর্ভাবস্থা বন্ধ করা বা বাচ্চা নষ্ট করার কোন উপায় নেই। তবে এমন কিছু পদ্ধতি রয়েছে যা অস্ত্রোপচারের হস্তক্ষেপের কোন প্রয়োজন ছাড়াই গর্ভাবস্থা বন্ধ করতে কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে। এইগুলো হল:

১. মেডিকেল গর্ভপাত
২. ভেষজ গর্ভপাত
৩. রাসায়নিক পদ্ধতি
৪. প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন পদ্ধতি
৫. স্যালাইন জল পদ্ধতি

আরো পড়ুনঃ গর্ভবতী হওয়ার কতদিন পর বমি হয়। গর্ভাবস্থায় বমির ট্যাবলেট এর নাম

৩ মাসের বাচ্চা নষ্ট করার ঔষধের নাম কি?

গর্ভাবস্থার ৩ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে তখন আর এমএম কিট ঔষধ কাজ করেনা। তবে isovent 200 mcg ট্যাবলেট ৩ টা খেতে হবে র ২ টা যোনি এর মধ্যে প্রবেশ করাতে হব। ইনস্ট্যান্ট সমাধান পেয়ে যাবেন।

৪ মাসের বাচ্চা নষ্ট করার ট্যাবলেট এর নাম

৪ মাসের বাচ্চা নষ্ট করার উপায় হচ্ছে সার্জিক্যাল গর্ভপাত। তবে Isovent 200 mcg ট্যাবলেট টি খেতে পারেন। আগের নিয়ম অনুযায়ী ৩ টা খাবেন আর ২ টা যোনিতে প্রবেশ করাবেন।

বাচ্চা নষ্ট করার পর কি কি সমস্যা হয়?

গর্ভপাতের পর নারীদের শরীরে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোন ঔষধ খেলে সেই ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া স্বরূপ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। গর্ভপাতের পর দু এক দিন বমিভাব, সপ্তাহখানেক তলপেটে ব্যথা, দুই সপ্তাহ থেকে মাসখানেক প্রজনন অঙ্গে রক্তক্ষরণ, কয়েক সপ্তাহ বিষণ্নতা, মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং গর্ভাবস্থার স্থায়িত্ব চার সপ্তাহের বেশি হলে স্তনে দুধও আসতে পারে।

বাচ্চা নষ্ট করার কতদিন পর মাসিক হয়

গর্ভপাতের পর সাধারণত ৪-৬ সপ্তাহ পরে পিরিয়ড দেখা দিতে পারে। আবার কারোর আগে ও হতে এতে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তবে যদি ৪-৬ সপ্তাহ পার হয়ে যায় পিরিয়ড না হয় তাহলে আপনাকে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে হবে।

গর্ভপাত বা বাচ্চা নষ্ট করার সম্পর্কে ইসলাম কি বলে?

ইচ্ছাকৃত গর্ভপাত এটা সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাড়িয়েছে। বেশিরভাগই অবৈধ সম্পর্কের কারণে ইচ্ছাকৃত গর্ভপাত বা বাচ্চা নষ্ট করা হয়ে থাকে। কেউ যদি  ইচ্চাকৃত গর্ভপাত করে এর মধ্যে কোনো কারণ না থাকে তাহলে এটি সম্পূর্ণ হারাম। বাচ্চা যে অবস্থা বা যত দিনেরই হোক না কেন।  রাসুল (স.) বলেছেন, ‘জা-লিকাল ওয়াদুল খাফি’ অর্থাৎ এটি গোপন হত্যা। এটি গোপনীয়ভাবেই ভ্রূণ বা বাচ্চা হত্যা যেটি সম্পূর্ণ হারাম করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন। তাই এটি হারাম তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই আমাদের উচিৎ এই পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা।

শেষ কথা

অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধ করতে গর্ভপাতের ট্যাবরেট খেতে পারেন। তবে ইচ্ছাকৃত গর্ভপাত না করাই ভাল কেননা এটা গোনাহের কাজ। তাই সবার উচিৎ সতর্ক থাকা।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url