ঘন ঘন প্রস্রাব কেন হয়? ঘন ঘন প্রস্রাব দূর করার ঘরোয়া উপায়।

ঘন ঘন প্রস্রাব দূর করার ঘরোয়া উপায়ঃ ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া একটা মারাত্মক সমস্যা আমাদের অনেকের মধ্যে রয়েছে। দেখা যায় কোন কাজ করা অবস্থায় একটু পর পর প্রস্রাব হওয়া খুবই বিরক্তিকর। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজের বিঘ্ন ঘটায়  এবং ঘুমের বিঘ্ন ঘটায়। এটা বড় কোন সমস্যা নয় তবে বড় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

ঘন ঘন প্রস্রাব কেন হয়? ঘন ঘন প্রস্রাব দূর করার ঘরোয়া উপায়।

আমাদের শরীরে মূত্র তৈরি এবং দেহ থেকে সেই মুত্র নিঃসরণের জন্য যে অঙ্গসমূহ কাজ করে সেগুলোতে কোনো কারণে সমস্যা বা  ইনফেকশন দেখা দিলে তাকে ইউনারি ট্রেক্ট ইনফেকশন  বলে। যার ফলে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দেয়।

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

একজন সুস্থ সাভাবিক মানুষ দৈনিক ৬-৭ বার প্রস্রাব করতে পারে ৷যদি সে একটু বেশি পানি পান করে তাহলে  হয়তো  ৮ /৯ বার পর্যন্ত প্রস্রাব হতে পারে৷এই পর্যন্ত সাভাবিক বলা যায় তবে এর চেয়ে বেশি হলে এটাকে ঘন ঘন প্রসাবের সমস্যা বলা যায় ৷এক কথায় কেউ যদি দৈনিক ২ লিটার পানি পান করে এবং ২৪ ঘন্টার ভিতর ৭/৮  বারের বেশি প্রস্রাব করে তাহলে তার শারিরীক কোন সমস্যা আছে বা ঘন ঘন প্রস্রাব সমস্যা আছে বলা যায় ।

আরো পড়ুনঃ ইউরিন ইনফেকশন বা প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া হলে কি করবেন 

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার কারণ

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার বেশ কিছু কারণ রযেছে। সেই কারণ গুলো সকলের জানা খুবই প্রয়োজন। দদ গুলো উল্লেখ করা হলঃ

১। ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার একটি প্রধান কারণ হচ্ছে  বেশি বেশি পানি পান করা ।

২। অতিরিক্ত দুঃশ্চিন্তা করার ফলে। কেউ কোন বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা  বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষাকালীন সময়ে বা কোন  ইন্টারভিউ দেয়ার পূর্বে এই সমস্যা দেখা দেয়।

৩। ছেলে-মেয়েদের পর্ণ দেখা বা উত্তেজক চিন্তার ফলে ও ঘন ঘন প্রস্রাব এর সমস্যা দেখা দেয়।

৪। শীতকাল বা ঠান্ডা-শুষ্ক পরিবেশে মানুষের শরীর ঘামতে দেখা যায় না ফলে শরীরের পানি ঘাম হয়ে না বের হওয়ার ফলে তা অতিরিক্ত প্রস্রাব তৈরি করে এবং  কিডনী এভাবে আমাদের শরীরে পানি ও লবণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

৫। শরীরে হঠাৎ কিছু রোগের লক্ষণ দেখা দিলে তার জন্য অতিরিক্ত প্রস্রাব হয়, যেমন - প্রস্টেট গ্রন্থির টিউমার, প্রস্রাবে জীবাণু সংক্রমণ ইত্যাদি।

৬। ডায়াবেটিস এর সমস্যা থাকলে। বা হঠাৎ ডায়াবেটিস বেড়ে গেল ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। 

৭।  কিডনী দূর্বল বা  অকেজো হবার লক্ষণ হল অতিরিক্ত বা ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া। 

৮। ব্লাডার ক্যান্সার, ব্লাডার বা কিডনিতে পাথর হলে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়।

৯। মূত্র নালীর যদি হঠাৎ সংকোচন হলে  ঘন ঘন প্রস্রাব বা প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

১০।  এলকোহল, চা, কফি পান করার কারণে ও  অতিরিক্ত প্রস্রাব হতে পারে। 

১১। পুরুষদের ক্ষেত্রে তার প্রোস্টেটে ইনফেকশন দেখা দিলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে। 

১২। প্রস্রাবের রাস্তায় কোন সমস্যা বা বাধা থাকে তাহলেও ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। 

১৩। মেয়েরা  গর্ভবতী হলে সন্তান আসার প্রথম ৩ মাস অতিরিক্ত বা  ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে ।

১৪। মেয়েদের ক্ষেত্রে পেলভিক ইনফ্লামেশন হলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে।

১৫। যক্ষা বা টিবি রোগ  হলেও তলপেটে জ্বালাপোড়া, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া এবং ঘন ঘন প্রস্রাব হয়ে থাকে। 

১৬। প্রস্রাবের থলি বা মূত্র থলিতে  ক্যান্সার হলেও প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া এবং ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ১০টি প্রাকৃতিক উপায়

ঘন ঘন প্রস্রাব রোগের লক্ষণসমূহঃ

  • ঘন ঘন বা অতিরিক্ত প্রস্রাব হওয়া।
  • প্রস্রাবের প্রচণ্ড চাপ বা বেগ অনুভব হওয়া।
  • প্রস্রাব করার সময়  সময় অসহ্য ব্যাথা, জ্বালাপোড়া ও অসহ্য অনুভূতি হওয়া।
  • তল পেট ফেঁপে থাকা ও স্বাভাবিকভাবে অথবা চাপ দিলে ব্যাথা অনুভব হওয়া।
  • প্রস্রাবের চাপে রাতে একটু পর পর ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া।
  • প্রস্রাব ঘন ফেনার মত অথবা দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব হওয়া।
  • প্রস্রাবের বেগ অনেক বেশি থাকার ফলে তলপেটে ব্যথা করে। কিন্তু প্রসাব করার সময় অল্প প্রস্রাব হয়।
  • ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার ফলে ধিরে ধিরে লিঙ্গ ছোট হয়ে যাচ্ছে এবং যৌন চাহিদা থাকা সত্ত্বে ও মিলনে অক্ষমতা দেখা দেয়।
  • প্রস্রাব একেবারে সম্পূর্ণ ভাবে বের হয়না  ৩/৪ মিনিট পর পর সামান্য প্রসার বের হয়।
  • প্রস্রাব করার কয়েক মিনিট পরে আবার কয়েক ফোঁটা ফোটা প্রস্রাব বের হয়।
  • একটু পর পর প্রস্রাবের ফলে লিঙ্গটা হালকা ব্যাথা অনুভব করে এবং প্রস্রাব করার পরে ও মনে হয় যেন প্রস্রাব আটকে আছে  আবার প্রস্রাব হবে।
  • কখনো কখনো  প্রস্রাব আটকে রাখতে যায় না কাপড় নষ্ট হয়ে যায়।
  • প্রস্রাবের থলেতে প্রস্রাব জমে থাকে প্রস্রাবের নালী চিকন হয়ে হয়ে যাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্রাব হয় না। 
  • দিনে রাত ২৪ ঘন্টা মিলে প্রায় ২০ থেকে ২৫ বার এর মত প্রস্রাব হয় ।

ঘন ঘন প্রসাব থেকে মুক্তি পেতে যা করণীয়ঃ

ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কিচু করণীয় রয়েছে যা আমাদের মেনে চলতে হবে। 

১। আপনি যদি ডায়বেটিসের রুগী হয়ে থাকেন তাহলে  ডায়বেটিস একদম কন্ট্রোলে রাখতে হবে৷আর যদি কোন ইনফেকশন থাকে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে৷ 

২।  ইউরিনারী ব্লাডারকে অর্থাৎ আপনার প্রস্রাবের থলিকে পুনরায় ট্রেনিং করাতে হবে৷ অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট সময় বিরতি দিয়ে অর্থাৎ ২ ঘন্টা বা ৩ ঘন্টা পর পর প্রতিদিন একই সময় প্রস্রাব করতে হয়।এতে প্রস্রাবের থলি  অনেকক্ষন প্রস্রাব ধরে রাখতে শিখে যাবে৷ ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা আস্তে আস্তে দূর হবে। 

২. খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে অর্থাৎ  যেইসব খাবার খেলে প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যা হয় যেমন চা,  কফি, চকলেট ইত্যাদি পরিহার করতে হবে৷ 

৩. নিয়মিত যথেষ্ট পরিমান পানি খেতে হবে৷ যাদের এই সমস্যা তারা রাতে ঘুমানোর আগে পানি খাবেন না।

৪।প্রতিদিন নিয়ম করে কিগল এক্সারসাইজ করতে হবে।আমরা সবাই জানি প্রস্রাবের থলি এবং প্রস্রাবের নালির (ইউরিথ্রা) চারদিকে পেলভিক ফ্লোর মাসল থাকে। এই  মাসল গুলোকে ব্যায়ামের মাধ্যমে শক্তিশালী করতে হবে ৷ তাহলে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা দূর হবে ৷ 

এই ব্যায়াম টা কিভাবে করবেন তা হল, মনে করুন আপনার প্রস্রাব আসতেছে কিন্তু আপনি ধরে রাখার চেষ্টা করতেছেন যাতে প্রস্রাব না আসে এটাকে বলা হয় পেলভিক মাসল কন্ট্রাক বা সংকোচন। তারপর আবার প্রস্রাব করার সময় যেই অবস্থা হয় বা সাভাবিক অবস্থা ফিরে আসলেন সেটা হল রিলাক্স বা প্রসারন ৷  

অর্থাৎ আপনি ৫ সেকেন্ড  ধরে পেলিভক মাসলকে শক্ত করে ধরে রাখবেন বা সংকোচন করবেন৷ আবার ৫ সেকেন্ড পর ছেড়ে দিবেন অর্থাৎ প্রসারিত করবেন বা সাভাবিক অবস্থায় আসবেন৷ এইভাবে ১০ বার করা হলে সেটাকে ১ সেট ধরা হয় ৷ দিনে ৩/৫ সেট করতে হবে। আপনি এই ব্যায়ামটি যে কোন সময়  শুয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে করতে পারবেন ৷ 

তবে এই ব্যায়ামটি প্রস্রাব করার সময় মাঝপথে হঠাৎ প্রস্রাব আটকিয়ে এই ব্যায়াম করবেন না । এতে করে প্রস্রাবের প্রবাহ উল্টোদিকে যেতে পারে এবং মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ হস্তমৈথুন এর ক্ষতিকর দিক সমূহ এবং এর থেকে বাঁচার সহজ উপায়।

ঘন ঘন প্রস্রাব এর সমস্যা দূর করতে যেসব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে কয়েকটি খাবার বা পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। এতে করে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা থেকে আপনি মুক্ত থাকতে পারবেন -

১। কফি

আমরা অনেকেই কফি পছন্দ করি। সকাল বেলা কফি না খেলে যেন দিন টা ভাল যায়না। তবে সেই কফি ব্লাডার বা মূত্র থলির ইনফেকশনের সমস্যা থাকলে সেটা আরো বাড়িয়ে দেয়।

২। কোমল পানীয়

মূত্র থলি ফুলে যাওয়া, মূত্রনালির সংক্রমণ বা ওএবি থাকলে কোমল পানীয় খাবেননা কেননা এতে  সমস্যা আরো বেড়ে যায়। তাই যতটা সম্ভব শুধু  পানি পান করুন।

৩। অ্যাসিডিক ফল

ফলফলাদি শরীরের জন্য খুবই ভাল।  তবে যদি আপনার ব্লাডারের সমস্যা বা ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা থাকে তাহলে অ্যাসিডিক ফল খাওয়া বন্ধ করুন। এই সময় অ্যাসিডিক ফল খেলে  মূত্রনালির সংক্রমণ আরো বেড়ে যেতে পারে। তাই মূত্রনালির সমস্যা বা ঘন ঘন  প্রস্রাবের সমস্যা থাকলে কমলালেবু, আঙুর, লেবু, টমেটো, পিচ, আপেল, আনারস থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

৪। ঝালজাতীয় খাবার

ঝালজাতীয় মুখরোচক খাবার খেতে আমরা সবাই পছন্দ করি। তবে আপনার যদি ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা বা  ব্লাডারে সমস্যা থাকে তাহলে খাওয়া বাদ দিতে হবে । মশলা বা ঝালজাতীয় যে কোন খাবার মূত্রনালিতে সংক্রমণের সমস্যা আরো বাড়িয়ে দেয়।

৫। কৃত্রিম মিষ্টিজাতীয় খাবার 

শরীরের ক্যালোরির পরিমাণ কমাতে অনেকেই  খাবারে চিনির বদলে কৃত্রিম মিষ্টি  খেতে পছন্দ করেন। তবে ডাক্তাররা জানিয়েছেন যে, কারো যদি মূত্রনালিতে সংক্রমণ থাকে তাহলে কৃত্রিম মিষ্টি থেকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে। কেননা এতে সংক্রমণ বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে।

ঘন ঘন প্রস্রাব দূর করার ঘরোয়া উপায়

ঘন ঘন প্রস্রাব দূর করার ঘরোয়া একটি উপায় আপনাদের সাথে শেয়ার করবো আশা করি এই প্রাকৃতিক উপায়ে ঘন ঘন প্রস্রাব দূর করার উপায়টি সবার কাজে আসবে ।
একটি পানীয় তৈরি করে খেতে হবে কিভাবে কি করবেন নিচে দেওয়া হল।

পানীয় তৈরি করতে যা যা প্রয়োজনঃ

১. আতপ চাল।
২.পানি।

  • প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে ১ গ্লাস পানি নিতে হবে।
  • তারপর সেই পানিতে আধা মুটো আতব চাল মেশাবেন।
  • এবার পানিকে ভালোভাবে নাড়া দিয়ে মিশিয়ে নিন। তারপর গ্লাসটি ডাকনা দিয়ে ডেকে রাখুন ।
  • তারপর সকালে,ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে শুধু পানি টুকু পান করবেন। চাল খাওয়া যাবেনা ।
  • এই ভাবে যদি নিয়মিত ২০ দিন খেয়ে যান।দেখবেন ধীরে ধীরে আপনার ঘন ঘন প্রস্রাবের সামস্যা দূর হয়ে যাচ্ছে। আগের মতো শরীরে শক্তি পাবেন। এবং যৌবন শক্তি ও বৃদ্ধি হবে।

ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা দূর করতে যেসব খাবার খাবেন।

১। পালংশাক :  এই শাক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি। এবং এই শাকে রয়েছে নানা রকমের পুষ্টিকর উপাদান, যা  ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে ।

২। চেরি : চেরিতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার ও পুষ্টি  , যা ব্লাডারের সমস্যা কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত চেরি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা কমায় ও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যাও দূর করতে সাহায্য করে।

৩। মেথি বীজ : ঘন ঘন প্রস্রাব চাপ কমাতে মেথি বীজ খেতে পারেন যে কোনো ধরনের ইউরিনারি ডিজঅর্ডার সারাতে দারুন ভূমিকা রাখে এই মেথি বীজ।

৪। তিল বীজ :  নিয়মিত তিল বীজ খেতে পারেন কেননা এতে রয়েছে প্রয়োজনীয় ফাইবার, মিনারেল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন পুষ্টি যা ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা কমাতে সহায়তা করে।

৫। ছোলা : ছোলা অনেক শক্তিশালী খাবার। শরীরের শক্তি বৃদ্ধি ও যৌন শক্তি বৃদ্ধি তে বেশ উপকারী। এই ছোলা তে  রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পলিফোনোলস, আয়রন এবং ক্যালসিয়াম। যার ফলে এগুলো মূত্রনালির সমস্যা কে দূর করতে সাহায্য করে এবং ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ কমাতে সহায়তা করে।

৬। কুমড়ার বীজ: ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা সমাধানে কুমড়ার বীজ একটি ভাল সমাধান হতে পারে।কেননা  কুমড়ার বীজে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। আর এই  ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রস্টেট এবং ব্লাডারকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায়তা করে। তাই ব্লাডার বা মূত্রথলির সমস্যা দেখা দিলে এটি খেতে পারেন ।

৭। ডালিম : বার বার প্রস্রাবের সমস্যা দূর করতে ডালিম খেতে পারেন।ডালিমে রয়েছে নানা ধরনের ভিটামিন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা মূত্র থলির সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

৮। পাকা কলা: ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা এড়াতে পাকা কলা খেতে পারেন।যাদের ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা আছে বা প্রসাব করার সময় জ্বালাপোঁড়া করে তাঁরা দুপুরে খাওয়ার পর কয়েকদিন পাকা কলা খেতে পারেন।নিয়মিত খেলে ভালো ফল পাবেন।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক! চেষ্টা করেছি ঘন ঘন প্রস্রাব দূর করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে। আশা করি যাদের এই সমস্যা রয়েছে তারা সব গুলো প্রক্রিয়া ভালভাবে মেনে চললে আশা করি এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। ধন্যবাদ

আরো পড়ুনঃ রসুনের উপকারিতা ও অপকারিতা এবং সেক্সে রসুনের উপকারিতা 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url