কিটো ডায়েট কি? কিটো ডায়েট কিভাবে করবেন। ডা. জাহাঙ্গীর কবির কিটো ডায়েট চার্ট |dr jahangir kabir keto diet chart

 dr jahangir kabir keto diet chart: কিটো ডায়েট চার্ট কথাটা জরিয়ে আছে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য বা ওজনের সাথে। ওজন কমাতে আমরা কত চেষ্টাই না  করি।  কেউ সারাদিন  না খেয়ে শরীর দূর্বল করে ফেলে অথচ ওজন কমাতে পারেনা। শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ে নানা টেনশন আর দুশ্চিন্তায় ভুগি। ওজন কমাতে বা শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সব থেকে জনপ্রিয় হল কিটো ডায়েট চার্ট। কিটো ডায়েট এর মাধ্যমে আমরা খুব দ্রুত ওজন কমাতে পারি।

বর্তমান সময়ের সব থেকে জনপ্রিয় মুখ  ডা. জাহাঙ্গীর কবির স্যার। তার নাম শুনেনাই এমন মানুষ খুব কমই আছে। বিশেষ করে যারা অনলাইনের সাথে পরিচিত বা  ফেসবুক এবং ইউটিউব ব্যবহার করি তাদের অধিকাংশই ডা. জাহাঙ্গীর কবির স্যার কে চিনি বা তার সম্পর্কে জানি।

আমরা যারা স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ তারা নিশ্চই ফেসবুক এবং ইউটিউবে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিভিন্ন রকম স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বা ডায়েট সম্পর্কিত পোষ্ট এবং ভিডিও গুলো অবশ্যই দেখে থাকবো। যেখানে তিনি ওজন কমানো ছাড়াও স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন ধরনের পরামর্শমূলক অনেক তথ্য তিনি দিয়ে থাকেন ।
কিভাবে দ্রুত শুধুমাত্র কিটো ডায়েটের মাধ্যমে ওজন কমানো যায়, কিটো ডায়েট চার্ট এবং কিভাবে ওজন কমিয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব তা তিনি তার পোষ্ট বা ভিডিওতে তুলে ধরেন। এতে সবাই খুবই উপকৃত হচ্ছে।

আরো পড়ুনঃ ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ১০টি প্রাকৃতিক উপায়

কিটো ডায়েট কি? কিটো ডায়েট কিভাবে করবেন। ডা জাহাঙ্গীর কবির কিটো ডায়েট চার্ট |dr jahangir kabir keto diet chart

তাই আজকের এই আর্টিকেলে ডা. জাহাঙ্গীর কবির স্যারের দেয়া একটি বহুল আলোচিত এবং জনপ্রিয় কিটো ডায়েট চার্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। আমাদের মধ্যে যারা নতুন ওজন কমানোর চিন্তা করছেন এবং ভাবছেন  ডায়েট শুরু করবেন তাদের জন্য  আজকের  এ ডায়েট  চার্টটি খুবই উপকারি  হবে।

বর্তমান সময়ে ডা. জাহাঙ্গীর কবির স্যারের এই ডায়েট চার্টটি dr jahangir kabir keto diet chart চারিদিকে বেশ ভালই সারা ফেলেছে । মূলত এই ডায়েটিং পদ্ধতি সফলতার হার থেকেই এর জনপ্রিয়তা অর্জিত হয়েছে এবং দিন দিন বেড়েই চলছে । আর এই জনপ্রিয় ডায়েটিং পদ্ধতিটির নাম হল  কিটো ডায়েট বা কিটোজনিক ডায়েট ।

কিটো ডায়েট কি ?

কিটো ডায়েট বা কিটোজেনিক ডায়েট  এটা কে বলা হয়  সুপার লো-কার্ব ডায়েট। এই ডায়েটিং পদ্ধতিতে খাবারে কার্ব এক্সট্রিম লেভেলে খুবই কম থাকবে আর ফ্যাট থাকবে অনেক বেশী আর প্রোটিন মধ্যম লেভেলে থাকবে। আমাদের সাধারন ডায়েটিং পদ্ধতিতে খাবারে  ৫০% কার্বোহাইড্রেট, ২০% প্রোটিন বাকি ৩০% ফ্যাট থাকে।

কিন্তু টিপিক্যাল কিটো ডায়েটে সর্বমোট ক্যালোরিক নিডের কার্বোহাইড্রেট একদম কম  ৫%, প্রোটিন থাকে ২৫% আর বাকি ৭০% ফ্যাট থাকে। অর্থাৎ আপনি সারাদিন যা খাবেন এই খাবারের কতটুকু কি থাকবে এর পার্সেন্টেজ এমন হবে। তাই আপনাকে আগে জানতে হবে খাবার সম্পর্কে যে  কোন খাবারে কতটুকু পরিমাণ কার্ব, প্রোটিন ও ফ্যাট রয়েছে।

আরো পড়ুনঃ শীতে ত্বকের যত্ন কিভাবে নিবেন? শুস্ক ত্বকের যত্ন নেওয়ার উপায়।

কিটো ডায়েট কীভাবে কাজ করে 

কিটো ডায়েটে কার্বোহাইড্রেট এর পরিমান সবথেকে কম থাকে। ফলে কিটো ডায়েট  কার্বোহাইড্রেট এর পরিবর্তে দেহের অতিরিক্ত ফ্যাট বা চর্বি কমাতে কাজ করে।  কার্বোহাইড্রেট এর পরিমাণ কম থাকায় আমাদের শরীর যখন কার্বোহাইড্রেট থেকে এনার্জি সংগ্রহ করতে পারে না, তখন সে ফ্যাট থেকে এনার্জি গ্রহণ করা শুরু করে ফলে ফ্যাট বার্ন হতে থাকে।

সাধারণত আমাদের শরীর  কার্বোহাইড্রেট থেকে শক্তি বা এনার্জি সংগ্রহ করে থাকে।এই কিটো ডায়েট করার ফলে যখন সে কার্বোহাইড্রেট থেকে শক্তি সংগ্রহ করতে পারেনা তখন শরীরে জমা অতিরিক্ত চর্বি ভেঙ্গে গিয়ে শক্তি তৈরি করে তখন আসতে আসতে শরীরের ওজন কমতে শুরু করে।


কিটো ডায়েট চার্ট বা কিটো ডায়েট খাবার তালিকা

ডা. জাহাঙ্গীর কবির স্যারের কিটো ডায়েট চার্ট আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করবো। তবে আপনারা যেন সহজেই বুঝতে পারেন তাই  কিটো ডায়েট চার্ট কে দুইটি ভাগে শেয়ার করবো।

১) যেসব খাবার মোটেও খাবেন না

২) এবং যেসব খাবার খেতে পারবেন বা খেতে বাঁধা নেই

কিটো ডায়েটে যেসব খাবার মোটেও খাবেন না –

কিটো ডায়েট করতে হলে কিছু খাবার আপনি খেতে পারবেন না আর খেলে কিটো ডায়েট করে কোন লাভ নেই। চলুন জেনে নেই খাবারের তালিকাঃ

১) চাউল এর কোন কিছু খাওয়া যাবেনা। অর্থাৎ চাল থেকে তৈরি এমন কিছু ( যেমনঃ ভাত, চাউলের রুটি, চাল দিয়ে তৈরি পিঠা ও অন্যান্য  দ্রব্যাদি)।

২) গমের থেকে তৈরি করা কোন জিনিসই খাওয়া যাবেনা (যেমনঃ রুটি, পাওরুটি, বিস্কুট, গম দিয়ে তৈরি করা অন্যান্য যে কোন উপাদান )

৩) যত ধরনের ডাল আছে সব ধরনের ডাল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

৪) যত ধরনের আলু আছে সব থেকে বিরত থাকতে হবে। (যেমনঃ মিষ্টি আলু, গাছ আলু বা আলু সদৃশ্য শর্করা জাতীয় যে কোন সবজি যেমন: মূলা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

৫) চিনি একদম নিষেধ। চিনিতে মারাত্মক ক্ষতি রয়েছে। তাই চিনি খাওয়া যাবে না। এবং চিনি দিয়ে যা কিছু তৈরী হয় তার কোনটাই একদমই খাওয়া যাবে না।

৬) দই, টক দই বা মিষ্টি দই এবং দুধ অথবা সরাসরি দুধ থেকে তৈরি যে কোন জিনিস  খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
মধু এবং মিষ্টি জাতীয় ফল খাওয়া যাবে না ।

৭) সয়াবিন তেল একদমই খাবেন না তা ছাড়াও  সূর্যমুখীর তেল অথবা রাইস ব্যান তেল সম্পূর্ণ ভাবে খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

৮) ফার্মের মুরগির মাংস খাবেন না , যে মুরগিগুলো টেনারির বর্জ্য থেকে উৎপাদিত খাদ্য গ্রহন করে অথবা সয়া খাওয়ানো হয় সেগুলো খাওয়া থেকে একদমই বাদ দিতে হবে।
আপাতত গরুর অথবা খাসির মাংস থেকে দূরেই থাকুন। বিশেষ করে যেসব গরু বা খাসি গুলোকে ইঞ্জেকশন এর মাধ্যমে মোটা তাজা করা হয় সেগুলো একদমই খাওয়া থেকে বাদ দিতে হবে  ।

আরো পড়ুনঃ পাইলস কি? পাইলস এর লক্ষণ ও ঘরোয়া চিকিৎসা 

যা খাওয়া যাবে বা খেতে বাঁধা নেই

কিটো ডায়েট করার সময়  আপনি যা খাবেন বা যেসব খাবার খেলে কোন সমস্যা হবে না সেই সব খাবারের তালিকাঃ

১) কিটো ডায়েটে সব থেকে বেশি খেতে হবে সবুজ শাক  সবজি।শাক সবজি যত বেশি পরিমানে খেতে পারেন খাবেন । তবে কিছু শাক সবজি আছে যেমন গাজর, কচি মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি এইগুলো কম খেতে হবে। 

২) টক জাতীয় যে কোন ফল (যেমনঃ জলপাই, আমলকী)এই গুলো খেতে পারেন।

৩) কচি ডাবের পানি পান করতে পারেন।

৪) যে কোন ধরনের মাছ খাওয়া যেতে পারে তবে তেল যুক্ত মাছ বেশি উত্তম  ৷ দেশি মাছের মধ্যে কিছু মাছ আছে যেমন  পাঙ্গাস, বোয়াল, সরপুঁটি, ব্রীগেড, গ্রাসকার্প, বাইম ইত্যাদি মাছ গুলো তে তেল বেশি থাকে তাই এই গুলো বেশি বেশি খাবেন ৷ সাগরের মাছ এবং তেল যুক্ত মাছ  হলে সব থেকে বেশি ভালো হয়।

৫) মাংস খেতে হলে গরু এবং খাসির মাংস খেতে পারবেন তবে অবশ্যই কম খাবেন। তবে এমন গরু বা খাসির মাংস খেতে হবে যা ইঞ্জেকশন মুক্ত  এবং ঘাস, লতা-পাতা বা খড় কুটো খেয়ে লালন পালন করা হয়। ইঞ্জেকশন দিয়ে মোটা তাজা করা হয় এমন গরু বা খাসির মাংস একদমই খাওয়া যাবেনা৷

৬) গরু বা খাসির পায়া খাওয়া যেতে পারে কেননা এতে ক্যালসিয়াম থাকে । কিটো ডায়েটের সময়  গরু বা খাসির পায়া খাওয়া খুবই উপকারী৷ তবে এটিও কম পরিমানে খাবেন।

৭) মুরগির ডিম খেতে পারেন যে কোন মুরগিই হোক সমস্যা নেই। তবে দেশি মুরগি বা হাসের ডিম হলে সব থেকে বেশী ভালো হবে। মাছের ডিমও খেতে পারেন সমস্যা নেই ।

৮) কিছু জিনিস রয়েছে যেমন, খাটি ঘি, অর্গানিক বাটার, এক্সট্রা ভার্জিন ওলিভয়েল, MCT ওয়েল, কোকোনাট ওয়েল এই গুলো খেতে পারেন কোন সমস্যা নেই ৷ এগুলো বাজারের বড় বড় শপে পাওয়া যায়, তবে সব থেকে ভাল হবে নিজে বাসায় তৈরী করে নিতে পারেন।

৯) যে কোন ধরনের বাদাম খেতে পারেন  (যেমনঃ চিনাবাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তা বাদাম, অন্যান্য যে কোন বাদাম) যখন ইচ্ছা খাওয়া যাবে ৷ ইচ্ছা করলে নারকেল তেলের সাথে বাদাম ব্লেন্ড করে একদম মিক্স করে পিনাট বাটার বানিয়েও খেতে পারেন ৷ যেটা খেতে খুব ভাল ও সুস্বাদু৷ তবে বেশি খাবেন না  অল্প পরিমাণে খাবেন।

১০) রং চা বা কফি খেতে পারেন তবে অবশ্যই চিনি এবং দুধ ছাড়া খাবেন। তা ছাড়াও গ্রীণ টি খেতে পারেন এটা খুবই উপকারি। আবার গ্রীণ টি এর সাথে লেবু, আদা এবং সামান্য লবন মিশিয়ে ও খেতে পারবেন । 

আবার যারা কফি খেতে পছন্দ করেন তারা  কফির সাথে MCT ওয়েল, মাখন বা খাঁটি ঘি, এবং অর্গানিক কোকোনাট অয়েল ভালভাবে মিশিয়ে বাটার কফি বানিয়েও খেতে পারবেন৷ এটা খুবই সুস্বাদু এবং এতে ভাল ফল পাওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ এলার্জি দূর করার উপায় এবং দাম সহ এলার্জির ঔষধের নাম। 

কিটো ডায়েট করার নিয়ম। dr jahangir kabir keto diet chart

সকালের নাস্তা –

সকালের খাবার একটু দেরি করে খাওয়ায় ভাল তবে  যাদের সকালে খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে তারা সকাল ৮টা বা সাড়ে আটটার দিকে এক কাপ চা খেতে পারেন তবে চায়ে দুধ ও চিনি একদমই মিশাবেননা ।চিনি ছাড়া চা খাবেন তবে চায়ের সঙ্গে অল্প আদা, লেবু এবং সামান্য লবণ মিশিয়ে নিলে ভাল হয়।

তারপর ভিনেগার খেতে পারেন। হালকা কুসুম গরম পানির সাথে অল্প পরিমান অ্যাপেল সিডার ভিনেগার অথবা কোকনাট ভিনেগার মিশিয়ে খাবেন।
আবার লেবু পানি খেতে পারেন। অল্প কিছু পরিমান লেবুর রস কুসুম গরম পানির সঙ্গে মিশিয়েও খেতে পারেন এটা ওজন কমাতে খুবই  উপকারি।

আপনি যদি সকাল আটটায় সকালের খাবার  খেযে নেন তাহলে অবশ্যই দুপুরের খাবার  দেড়টার মধ্যে খেয়ে নিতে হবে। আপনার যদি দেরিতে নাস্তা করার অভ্যাস থাকে তারা বেলা এগারোটার দিকে উপরোক্ত নিয়ম অনুযায়ী সকালের নাস্তা করবেন এবং দুপুরের খাবার অবশ্যই আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে শেষ  করবেন।

দুপুরের খাবার-  

দুপুরে খাবার খাওয়ার কিছু সময় আগে এক গ্লাস পানির সাথে এক চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার ভালভাবে মিশিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করবেন । এতে আপনার গ্যাসট্রিকের সমস্যা হবে না আর গ্যাসট্রিক এর সমস্যা থাকলে দূর হয়ে যাবে। এবং তা খেলে চর্বি কাটাতেও খুব ভাল কাজ করবে। দুপুরে খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ  আগে এটা  অবশ্যই আপনাকে খেতে হবে।

দুপুরের খাবার তালিকায় যা রাখবেন তা হল সবুজ শাক সবজি, মাছ বা মাংস এই গুলো রাখার চেষ্টা করবেন। আরো ঘি দিয়ে ভাজা ডিম, ঘি দিয়ে ভাজা বাদাম এবং সাথে বাটারও রাখতে পারেন । এর সাথে অবশ্যই সালাদ রাখার চেষ্টা করবেন যেমন টমেটো, গাজর, ক্ষীরা বা শসার  সালাদ খাবেন এটা খুবই ভাল কাজ করবে।

রান্নার ক্ষেত্রে একটা জিনিস সবসময় মাথায় রাখতে হবে তা হল রান্নাতে কখনো সয়াবিন তেল ব্যবহার করবেন না।  শাক, সবজি বা মাছ মাংস সবসময় এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল দিয়ে রান্না করতে হবে না হয় সরিষা তেল দিয়ে।আর  মাছ ভাজার সময় হালকা ভাবে বাজবেন (কড়া করে কখনো ভাজবেন না এতে মাছের খাদ্যগুণ অনেকাংশে নষ্ট হয়)। সবজি রান্নার ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব কম সেদ্ধ করবেন যেন সবজির গুণগত মান নস্ট না হয় এবং এর মান বজায় থাকে।

ডিম কুসুম সহ ঘি বা মাখন দিয়ে ভেজে খাওয়ার চেষ্টা করবেন। আর ডিম খেতে পারবেন প্রতিদিন সর্বোচ্চ ছয়টা পর্যন্ত এর বেশি খাবেন না। ছয়টা খেলে কোন সমস্যা হবে না। কারণ ডিমে অনেক প্রোটিন এবং ফ্যাট রয়েছে। তবে চিন্তার কোন কারণ নেই কেননা একবার যদি ফ্যাট এ্যাডাপটেশন হয়ে যায় সেক্ষেত্রে আপনি ইচ্ছা করলেও  আর এত খেতে পারবেন না।

যারা মুরগির মাংস খেতে পছন্দ করেন তারা দেশি মুরগির মাংস খেতে পারেন, তবে খুবই কম খাওয়ার চেষ্টা করবেন এক বা দুই টুকরো অথবা উল্লেখিত গরু বা খাসির মাংস। যদি দুপুরের খাবারে  মাছ খান সেক্ষেত্রে মাংস খাবেন না। আর যদি মাংস খান তাহলে মাছ খাওয়া যাবে না অর্থাৎ যে কোন একটি খেতে হবে ।

ব্রয়লার মাংস খাবেন না  তবে বিদেশে অবস্থানকারীরা ব্রয়লার মুরগি এক টুকরো মাংস খেতে পারেন। কারণ অন্যান্য দেশে ফার্মের মুরগিকে আদর্শ মানের খাবার খাওয়ানো হয় তাই আশা করি কোন সমস্যা হবে না।
বিদেশে অবস্থানকারীরা দুম্বা, উট অথবা ভেড়ার মাংস খেতে পারেন কিন্তু কোনভাবেই এক টুকরোর বেশি খাওয়া যাবে না।

বিকেলের নাস্তা –

বিকেলে সাধারণ কেউ কিছু খায়না। কখনো কখনো ক্ষুধা লাগলে কিছু খেতে পারেন। বিকেলে যদি ক্ষুধা পায় সেক্ষেত্রে উপরে বর্ণিত চা, বাটার কফি এবং বাদাম এই গুলোকে যে কোনো ধরনের মাখন বা ঘি দিয়ে ভেজে খেতে পারেন অথবা মিশিয়ে খেতে পারেন ।

রাতের খাবার-

রাতে খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ আগে  দুপুরের মত ঠিক একই ভাবে  ভিনেগার মিশ্রিত এক গ্লাস পানি  খেয়ে নিবেন।

রাতের খাবারে তেমন কিছু খাওয়ার দরকার নেই   দুপুরের খাবারের অনুরূপ যা যা বলা হল তাই খাবেন । তবে খাবারের আইটেম কিছু কম হোক বা  বেশি তাতে কোনো সমস্যা নেই।

রাতের খাবার অবশ্যই আটটার আগেই সব ধরনের খাবার খেয়ে শেষ করতে হবে । এরপর অন্য কিছু খাওয়া যাবেনা তবে পানি পান করতে পারবেন।


কিটো ডায়েট কতদিন করা উচিত

কিটো ডায়েট কতদিন করা উচিৎ তা বলা মুশকিল কেননা এটা নির্ভর করে কিটো ডায়েট করা ব্যক্তির উপর। তার শরীরে কেমন গ্লুকোজ বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং তিনি ওজন কতটুকু কমাতে চান  এইসব এর উপর নির্ভর করে। তবে আপনি যদি পরিবর্তন দেখতে চান তাহলে কমপক্ষে ২৮ দিন অপেক্ষা করতে হবে। আবার কারো কারো ৩ মাসের মত সময় লাগতে পারে।

কারা কিটো ডায়েট চার্ট ব্যবহার করবেন না

কিটো ডায়েট সবার করা উচিত নয় কেননা কারো কারো ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হতে পারে। যাদের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে  যেমন,

  • কিডনিতে সমস্যা
  • হৃদরোগের ঝুঁকি
  •  গর্ভবতী মহিলা
  • নার্সিং মহিলারা
  • টাইপ-১ ডায়াবেটিস আছে
  • পিত্তথলি অপারেশন করা হয়েছে
এমন ব্যক্তিদের কিটো ডায়েট করা উচিত হবে না তাই এদের সাভাবিক ভাবেই খাবার খেতে হবে ।

কিটো ডায়েটে যে বিষয় গুলো অবশ্যই মানতে হবে:

১)খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে হবে  রাত দশটা বা সর্বোচ্চ এগারোটার ভেতর ঘুমিয়ে পড়ুন।কারণ রাতে   আমাদের শরীর থেকে গ্রোথ হরমোন নি:সরন হয় তা আমরা জানি।  আর এই গ্রোথ হরমোনগুলো যখন নিঃসৃত হয় তখন আপনার শরীরের ফ্যাট বার্নিং করতে প্রচুর সাহায্য  করে।

২) ভোরে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে হবে৷উঠে নামাজ পড়ে হাঁটতে হবে। কিছু খাবেন না খালি পেটে হাটবেন কেননা খালি পেটে হাটলে শরীরের ফ্যাট বার্ণিং করতে সহজ হয়  । আপনার শরীরের সাথে মানিয়ে ব্যায়াম করুন এবং হাটুন।

৩)আপনার মেদ ভুরি যদি অতিরিক্ত বেশি থাকে এবং দ্রুত কমাতে চান তাহলে ইয়োগা করতে পারেন ৷ ইয়োগা করার পদ্ধতি যদি না জেনে থাকেন তাহলে  ইউটিউব থেকে দেখে নিতে পারেন।

৪) সাতদিন উপরে উল্লেখিত নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণরূপে মেনে চলুন। দেখবেন তখন থেকেই আপনার শরীরে ফ্যাট বার্নিং করতে বা চর্বি গলা শুরু হয়ে যাবে৷ আর এটাই হচ্ছে আপনার কিটো ডায়েট এর ১ম ধাপ।

৫) এক সপ্তাহ বা ১০ দিন পর থেকে  দ্বিতীয় ধাপ শুরু করুন আর তা হলে আপনাকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত  না খেয়ে থাকতে হবে  বা রোজা রাখতে হবে ৷রোজা রাখলে সেহরীতে শুধুমাত্র পানি পান করো রোজা রাখার চেষ্টা করুন ৷

৬) কোন প্রকার মুড়ি চ্যানাচুর দিয়ে ইফতার করবেন না। ইফতারে বাদাম, মাখন এবং শসা এই গুলো  দিয়ে ইফতার করবেন ৷ সাথে সালাদ এবং যে কোন টক জাতীয় ফল খেতে পারেন।

৭) যখন না খেয়ে থাকার চেষ্টা করবেন তখন অনেক সময় বসা অবস্থা থেকে দাঁড়াতে গেলে বা দাড়ানো অবস্থায় হঠাৎ মাথা সামান্য ঘুরে যেতে পারে ৷ সেক্ষেত্রে অল্প পরিমান লবন মিশ্রিত পানি  বা ডাবের পানি খাবেন প্রতিদিন ৷

৮) একসাথে যতগুলো রোজা রাখতে পারবেন তত ভাল হবে এবং তত দ্রুত ফল পাবেন। তবে এক সপ্তাহ পর পর দুইদিন করে রোজা বিরতি দিবেন ৷ আর এই দুইদিন আগের নিয়মেই খাবেন তবে দুই বেলা খাবেন মিনিমাম ৪ ঘন্টা ব্যবধানে ।

৯) আমাদের মধ্যে অনেকেই রোজা রাখতে পারিনা। যাদের এক টানা রোজা রাখতে সমস্যা হয় তারা একসাথে না রেখে ভেঙে ভেঙে বা  প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুইটা রোজা রাখার চেষ্টা করুন। আর যারা একদমই রাখতে পারবেন না তারা উল্লেখিত নিয়ম অনুযায়ী খাবেন তবে খাদ্যবিরতির সময় টা আরো বাড়িয়ে নিবেন।

১০) বাহিরের ভাজাপোড়া জিনিস খাবেন না এবং অতিরিক্ত তেল যুক্ত কিছু খাবেন না। 

১১) সয়াবিন তেল থেকে অবশ্যই দূরে থাকুন। রান্নায় সরিষা তেল বা অলিভ অয়েল তেল ব্যবহার করুন। 

১২) অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করবেন না। সবসময় হাসি খুশি থাকুন।

১৩) নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করুন এবং ব্যায়াম করুন। আশা করা যায় উপরে উল্লেখিত নিয়ম মেনে চলতে পারলে দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যেই আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যেতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

গুগল নিউজে আমাদের Follow করুন "পাঁচমিশালী"alert-success 

শেষ কথা

কিটো ডায়েট চার্ট অনুযায়ী চলা যদিও একটু কঠিন কিন্তু এতে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়। ডা. জাহাঙ্গীর কবির স্যারের কিটো ডায়েট চার্ট সঠিক ভাবে মেনে চলতে পারলে এক মাসের মধ্যেই আপনি পরিবর্তন লক্ষ করবেন। এবং সফল হবেন। ধন্যবাদ

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url